Wednesday, November 18, 2015

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাফল্য নির্ভর করে সাইটের ভিজিটর বা ট্রাফিকের উপর। সব ভিজিটর কিনতে আসে না। যারা কেনার জন্য প্রস্তুত আর তার জন্য তথ্য সন্ধান করছে তারাই বায়ার ট্রাফিক। এই বায়ার ট্রাফিক যত বেশি সাইটে আসবে সাইটের আয় তত বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ট্রাফিক কোথায় পাবো?
ফ্রি পেতে পারেন আবার বিজ্ঞাপন দিয়ে পেতে পারেন।
ফ্রি ট্রাফিক সোর্স– সার্চ ইঞ্জিন ( যেমন গুগল), সোশাল মিডিয়া (ফেসবুক, ইউটিউব, পিন্টারেস্ট, টুইটার ইত্যাদি)।
পেইড ট্রাফিক সোর্স – সার্চ ইঞ্জিন ও সোশাল মিডিয়া তে বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন সাইটে ব্যানার এড ইত্যাদি।
এফিলিয়েট করার ক্ষেত্রে অনেকে কেবল পেইড ট্রাফিকের উপর ভিত্তি করে স্ট্রাটেজি তৈরি করে, অনেকে আবার ফ্রি ট্রাফিকের উপর ভিত্তি করে স্ট্রাটেজি তৈরি করে।
free traffic vs paid traffic
ফ্রি ট্রাফিক হলে – সাধারণত  সাইট তৈরি করে এবং এসইও করে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ট্রাফিক পাওয়ার জন্য। সোশাল মিডিয়াতে চ্যানেল বা পেইজ তৈরি করে লেখা শেয়ার করে।
পেইড ট্রাফিক হলে – এফিলিয়েট প্রোডাক্ট নিয়ে লিখে বা ল্যান্ডিং পেইজ তৈরি করে। ল্যান্ডিং পেইজে বা লেখাতে বিভিন্ন সোর্সে বিজ্ঞাপন দিয়ে ভিজিটর আনে।
আগেই বলেছিলাম যে বায়িং ট্রাফিক হলো সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ফ্রি বা পেইড ট্রাফিক সোর্স বিবেচনা করলে দেখা যায় এসইও থেকে পাওয়া ট্রাফিক সব চাইতে উত্তম। একটা এড যতক্ষন চলবে ততক্ষন ভিজিটর আসবে। এই ভিজিটর অনেকেই আসলে কিনতে তৈরি না। ধরুন আপনি একটা চমৎকার এড দেখলেন। পেইজটি ভিজিট করলেন। আগ্রহ থাকলে আপনি কিনতে তখন তৈরি না।
আবার আপনি যখন কোন কিছু কিনতে চাচ্ছেন আপনি গুগলে সার্চ করছেন। আপনি একটি সাইটে ঐ পণ্যটি সম্পর্কে লেখা পেলেন আর তাতে থাকা লিঙ্ক ফলো করে কিনে ফেলতে পারেন। যেহেতু কিনতেই খুঁজছিলেন ধরে নিতে হবে আপনার একটা বাজেট রেডিই ছিলো। বায়িং ট্রাফিক ছাড়াও এসইও থেকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ট্রাফিক পেতে পারেন। অর্থাৎ, আপনার সাইটটি গুগলের রেজাল্ট পেইজে যতদিন প্রথম দিকে থাকবে ততদিনেই আপনি ভিজিটর পাবেন – ২৪x৭ , ৩৬৫ দিন।
Paid traffic
পেইড ট্রাফিক থেকে পাওয়া ট্রাফিককে বায়ার বানাতে কিছু কৌশল নিতে হয়। শুরুতে কিছু ফ্রি দিয়ে তাদেরকে ইমেইল লিস্ট-এ অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এরপর আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে এডুকেট করার জন্য ই-মেইল পাঠাতে হয়। এই ই-মেইল এমনভাবে লিখতে হয় যাতে করে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়। এইভাবে আগ্রহ তৈরি করে প্রোডাক্টটি কেনার জন্য কৌশল তৈরি করতে হয়।
পেইড ট্রাফিকের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আপনার নিচের স্কিলগুলো থাকতে হবে অথবা শিখতে হবে অথবা কাউকে হায়ার করতে হবে।
  • ভালো প্রোডাক্ট খুঁজে বের করা
  • ট্রাফিক সোর্স বের করা
  • এড  লিখতে পারা বা ব্যানার তৈরি করা
  • ট্রাফিক সোর্সের টার্গেট ঠিক করা
  • ল্যান্ডিং পেইজ তৈরি করা – লেখা ও ডিজাইন । ইংরেজিতে হাই-কনভার্টিং ডিরেক্ট রেসপন্স কপি লেখার দক্ষতা খুব কম মানুষের থাকে। এমনকি নেটিভ ইংলিশ স্পিকারদেরও অনেকের এই স্কিলটি থাকে না। লেখা আকর্ষনীয় না হলে এড দিলে টাকা নষ্ট হবে, ভিজিটর কনভার্ট হবে না।
  • ফ্রি গিফট – সাধাররণত ই-বুক। বাংলাদেশের অনেকের ক্ষেত্রে ইংরেজীতে ই-বুক লেখা সম্ভব নয়। আর শিখতে গেলে দুইটা বিষয় শিখতে হবে। ইংরেজি ও লেখার দক্ষতা। দুইটাই সময়সাপেক্ষ বিষয়। সেক্ষেত্রে কাউকে দিয়ে লিখিয়ে নেয়া যায়। ১০ পাতার একটা ই-বুক এই ক্ষেত্রে ৭০ থেকে ১০০ ডলার দিয়ে লিখিয়ে নেয়া যাবে।
  • ইমেইল সিরিজ – ইমেইল পড়ে যার কেনার ইচ্ছা নাই বা কম তার কেনার ইচ্ছা হবে এমন ধরনের ইমেইল লেখা খুব টপ একটা স্কিল। নিজে লিখতে না পারলে ৭ থেকে ১০ ইমেইল ১০০ ডলারের মধ্যে লিখিয়ে নেয়া যাবে।
  • বিজ্ঞাপন বাজেট – নির্ভর করবে আপনার সামর্থ্যের উপর। কমপক্ষে ৫০০ ডলার হলে একটা ক্যাম্পেইন কেমন করবে তার প্রাথমিক একটা পরীক্ষা করা যায়।
  • ডোমেইন ও সার্ভার – ডোমেইনের দাম তেমন কিছু নয়। ১০ ডলারের মধ্যে পাওয়া যাবে। পেইড ট্রাফিকের ক্ষেত্রে ভালো সার্ভার গুরুত্বপূর্ণ। সেই ক্ষেত্রে নিজের ভিপিএস থাকা ভালো। খরচ মাসে ২০ থেকে ৫০ ডলার ধরে নেয়া যায়।
উপরের খরচ প্রতিটি ক্যাম্পেইনের জন্য। অনেক কারনেই আপনি ব্যর্থ হতে পারেন। ভুল প্রোডাক্ট, ভুল ট্রাফিক টার্গেটিং , ভুল ট্রাফিক সোর্স, লো কোয়ালিটি লেখা, কম্পিটিশন – একই প্রোডাক্ট অনেকেই প্রোমোট করে আয় করতে পারে। দেখা যায়, পেইড ট্রাফিকে দ্রুত আয় করার সুযোগ থাকলে নতুনদের জন্য অনেক কঠিন হয় আর অনেক স্কিল আছে যেগুলো নিজে শিখে নেয়া  অনেকের জন্য প্রায় সম্ভব না। তাই পেইড ট্রাফিকে লস করার সম্ভাবনা বেশি।
অন্য দিকে এসইও ভিত্তিক অর্থাৎ ফ্রি ট্রাফিক ভিত্তিক এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে রিস্ক অনেক কম। ভুলগুলো শুধরানোর সুযোগ পাওয়া যায়। আয় করা একটা সাইট বিক্রি করে দেয়া যায় ২০ থেকে ৩০ গুণে। অনেক স্কিল শেখা যায় যেগুলো দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়, কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা যায় কিংবা নিজের বিজনেস তৈরি করা যায়।
ফ্রি বা পেইড এফিলিয়েট কোনটা শিখবেন বা করবেন?
SEO vs PPC
দুই ভাবেই সফল হওয়া যায়। অনেক ভালো টাকা আয় করা যায়। বাংলাদেশের পেক্ষাপটে আমি মনে করি অধিকাংশেরই ক্ষেত্রেই ফ্রি ট্রাফিক অর্থাৎ এসইও ভিত্তিক এফিলিয়েট মার্কেটিং দিয়ে শুরু করা উচিত। দক্ষ হয়ে উঠলে এবং লস করার মতো রিস্ক নেয়ার মতো টাকা জমলে পেইড ট্রাফিক নিয়ে কাজ শুরু করা যেতে পারে।
ফ্রি ট্রাফিকে শুরু করার ক্ষেত্রে শুরু করার উপায় হলো উন্নত প্রশিক্ষণ ও মেনটরিং। আমরা দেখেছি প্রশিক্ষণ নিতে অনেকের জন্য ফিজিক্যালি কোন কোর্সে ভর্তি হওয়া সম্ভব না – পড়াশুনা, চাকরি কিংবা বাসায় ব্যস্ত থাকার কারনে । অনেকে ভর্তি হলেও নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে না। নিয়মিত না থাকার কারনে অনেক কিছুই বুঝতে পারে না। এতে করে ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে আর শুরু করে না। অন্যদিকে যারা নিয়মিত উপস্থিত থাকে তারা কোর্স শেষ করতে করতে অনেক কিছুই ভুলে যায়। শুরু করছি করছি করে আর করতে পারে না।
এই সমস্যার সমাধানের জন্য কিগজ খুবই কার্যকরী স্ট্রাটেজি নিয়েছে। প্রথমত একেবারে বিগিনারদের জন্য ধাপে ধাপে অনলাইন ভিত্তিক কোর্স চালু করছে। অনলাইন কোর্স যেকোন জায়গা থেকে অংশগ্রহণ করা যাচ্ছে। কোন বিষয় না বুঝলে তার সমাধান দিতে প্রাইভেট ফোরামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাইভেট ফোরামে সিনিয়র মার্কেটার ও মেনটরগন দ্রুত যেকোন সমস্যার উত্তর দিয়ে দিচ্ছেন। অনলাইন কোর্স ও ফোরামের সাহায্য ছাড়াও থাকছে মেম্বার কনটেণ্ট। প্রয়োজনীয় ফাউণ্ডেশন তৈরির পর মেনটরদের অধীনে সাইট তৈরির জন্য আয়োজন করা হবে বুটক্যাম্পে। ২ দিন ব্যাপি বুটক্যাম্পে মেনটরগন সাহায্য করবে একটি পূর্নাঙ্গ সাইট তৈরি করতে। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের এই ইউনিক ব্যবস্থা এফিলিয়েট মার্কেটিং সহজেই শুরু করতে সাহায্য করবে।

0 comments:

Post a Comment

About Bangladesh

Bangladesh, east of India on the Bay of Bengal, is South Asian country of lush greenery and many waterways. Its Padma (Ganges), Meghna and Jamuna rivers create fertile alluvial plains, and travel by boat is common. On the southern coast, the Sundarbans, an enormous mangrove forest shared with India, are home to the Royal Bengal tiger. Capital: Dhaka Population: 156.6 million (2013) World Bank Currency: Bangladeshi taka Prime minister: Sheikh Hasina President: Abdul Hamid Official language: Bengali

Blog Archive

RASHIDUL ISLAM NUR. Powered by Blogger.

1 Muscle Growth Offer

Popular Posts

Recent Posts

Online best product list

If Your need best online product list then please visit this site:
Click Here Now